সোরিয়াসিস চর্মরোগ এবং হোমিওপ্যাথি

0
0
*সোরিয়াসিস চর্মরোগ এবং হোমিওপ্যাথি*
আমার জীবনে চর্মরোগ নিয়ে আমি প্রথম ধৈর্যের পরীক্ষা দেই আমার ছেলের চর্মরোগ নিয়ে। আমার ছেলে ছোটবেলাতেই তার মুখে, হাতে পায়ে ছোট ছোট এলার্জির মত স্কিন ড্রাইনেস এর মত এক ধরনের চর্মরোগ হত। তাকে দেখলে মনে হতো যে তার মুখে আমি কোন ধরণের ক্রিম বা কোন লোশন ব্যবহার করিনা তাই তার মুখটা এতটাই খসখসে। সিনিয়র ডাক্তার দের থেকে হোমিও মেডিসিন নেওয়ার পর তার মুখের খসখসে ভাব তা কিছুটা কমলেও তার হাতে পায়ে পুনরায় এক ধরনের ছোট ছোট দাদ এর মত দেখা দেয় যেটা তার সমস্ত পায়ের পেন্ডুলা গুলোর মধ্যে ছোট ছোট ভাবে হয়ে পুরোটাই ছড়ানো থাকে
আমি সিনিয়র ডাক্তারদের থেকে এই রোগের ওষুধ নেওয়ার পর কিছুদিন পর সেটা ভালো হয়ে যায়। ওষুধ বন্ধ করে দিলে আবার সেটা পুনরায় দেখা দিতে থাকে এভাবে আমি একের পর এক মেডিসিন ব্যবহার করতে থাকে কিন্তু তার রোগ চলে যে বারবার আবার দেখা দিতেই থাক।
একপর্যায়ে আমার শ্বশুর বিরক্ত হয়ে তাকে এলোপ্যাথিক ডাক্তার দেখানোর জন্য জোর করতে থাকে কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা তাকে কোনভাবেই এলোপ্যাথিক ডাক্তার দেখাই না কেননা আমি জানি, আমার বিদ্যা এবং আমার শিক্ষা আমাকে এই জানান দিয়েছে যে চর্মরোগ যদি আমি এলোপ্যাথিক ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে চাপা দেয় তবে সেটা পরবর্তীতে অন্য একটি রোগের সরুপ ধারণ করে ফুটে বের হবে যেটা আমি আমার ছেলের জন্য কখনোই চাই না।
আপাতদৃষ্টিতে হয়তো সাময়িক ভাবে তার স্কিনের সমস্যা টা ভালো বলে মনে হবে কিন্তু পরবর্তীতে সেটি অন্য একটি রোগের তীব্র রূপ ধারণ করে বের হবে। একদম ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে যদিও স্কিনের এত সমস্যা নিয়ে ভুকত কিন্তু তার অন্য কোন ধরনের এটার বহিঃপ্রকাশ ছিল না।
এই স্কিনের সমস্যা তে না ছিল কোন ধরনের চুলকানি, না ছিল কোন ধরনের ডিসচার্জ বরং আমার ছেলে আমাকে এই চর্ম রোগের সমস্যা নিয়ে কোন বিরক্ত করতো না, তার নাওয়া খাওয়া সবকিছু ঠিকঠাক ছিল শুধু বাহ্যিকভাবে এই চর্মরোগ টা দেখা দিত।
আমি তার এই চর্ম রোগের জন্য কয়েকটি ডাক্তার পরিবর্তন করি কেননা তার বর্তমান বয়স যদি সাড়ে তিন বছর হয়ে থাকে আমি এই সমস্যা এক বছর থেকেই ডাক্তার দেখাচ্ছি।
বর্তমানে এখনো তার ওষুধ চলছে এবং সে এখন কিছুটা ভালো দিকে আলহামদুলিল্লাহ এখানে অনেকে প্রশ্ন করতে পারে, মা যেখানে হোমিও ডাক্তার যেখানে আমার কাছে এতো ভালো ভালো সিনিয়র ডাক্তারদের সাথে পরিচয় আছে সেখানে এতদিন ভোগার কারণ কি?
কারণ হিসেবে আমি বলব এইযে চর্মরোগ সেটা সর্বদাই ভালো হতে দীর্ঘস্থায়ী সময় নেয় বরঞ্চ রুগিরাই অস্থির হয়ে যায় খুব দ্রুত ভালো হওয়ার জন্য তাই তারা এলোপ্যাথিক বিভিন্ন মেডিসিন মলম ব্যবহার করে এই চর্মরোগ টাকে চাপা দেয় যা পরবর্তীতে ঠান্ডা, যক্ষ্মা অন্য কোনো রোগের আকৃতি হয়ে প্রকাশ পায় কিন্তু রোগীরা সেটা বোঝে না তারা মনে করে এটি নতুন আরেকটি রোগ কিন্তু মূলত সেটা তার চাপা পড়া চর্মরোগেরই আরেকটি রূপ।
আমি দীর্ঘ আড়াই বছর কষ্ট করে ধৈর্য ধারণ করে রয়েছি শুধুমাত্র এই চর্মরোগ টা যাতে তার নিজস্ব গোড়া থেকে ভালো হয়ে যায় এই আশায়, অন্য কোন ঔষধের দিকে আমি ধাবিত হই নাই অনেক রোগীরা কয়েক মাস ওষুধ নেওয়ার পরেই অস্থির হয়ে যায় কেন সেটা ভাল হচ্ছেনা কিন্তু মূলত চর্ম রোগ ভালো হতে বরাবরই অনেক সময় লাগে আর যে চর্মরোগ মলম দিয়ে চাপা পড়া দিয়ে উপশম করা হয়েছে সেই চর্মরোগ ভালো হতে আরো বেশি সময় লাগে।
তেমনি আরেকটি ঘটনা শেয়ার করে আমার কাছে এক রোগী আসে তার মা সহ মেয়ের মাথায় সোরিয়াসিস খুশকির মতো আমি তাকে দেখে মেডিসিন দেই মেডিসিন খাওয়ার পর তার মাথা শেষ সোরিয়াসিস মোটামুটি ৮০ ভাগের মধ্যে ভালো হয়ে যায় আমাকে মেসেজ দিয়ে তারা জানায় তবুও আমি তাদেরকে মেডিসিন বন্ধ করতে নিষেধ করেছি কেননা আমি জানি যে এই সোরিয়াসিস আবার ফেরত আসতে পারে আমার অভিজ্ঞতা এবং সিনিয়র ডাক্তারদের শিক্ষা থেকে আমি জানতে পারি সোরিয়াসিস ভালো হয়ে আবার পুনরায় ফিরে আসে তাই আমি তাদেরকে আবার সেই ওষুধ চালিয়ে যেতে বলেছি যেন ওষুধ চলতে থাকলে সেই সোরিয়াসিস আর পূর্বের মত বৃদ্ধি হতে না পারে এবং তার গতি দুর্বল হয়ে গিয়ে ভালোর দিকে এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লা। আশারাখি যদি সেই রোগি মেডিসিন কন্টিনিউ করতে থাকে ইনশাআল্লাহ তার ঠিক হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here