পাইরিয়ার কি?

0
1
দাঁতের মাড়ীতে নালী ঘা’কে পাইরিয়া বলে।দীর্ঘ দির দাঁত পরিস্কার না রাখা,আঘাত জনিত কারনে বা ভিটামিন ”সি” এর অভাব জনিত ক্ষতের কারনে দাতের মাড়ীতে যে ক্ষত হয় তার নাম পাইরিয়া।আবার পেটের গোলযোগের কারনেও পাইরিয়া হয়।এই রোগে দাাঁতের মাড়ী হতে রক্ত পরে,বেদনা হয়,দাতের গোড়া ফুলে যায় ও মুখে দুর্গন্ধ বের হয়।রোগী দাঁতের বেদনার কারনে খাদ্য চিবিয়ে খেতে পারে না।মুখ হতে লালা বের হয়।
পাইরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধের পার্থক্য বিচারঃ-
হেক্লারা লাভাঃ- পাইরিযা রোগের শ্রেষ্ঠ ঔষধ।মাড়ী ফোলা,ক্ষত,বেদনাযুক্ত,দাাঁতে পোকায় ধরা,দাঁত আস্তে আস্তে ভেঙ্গে যায়।দাঁত তুলিয়া ফেলার পরে যন্ত্রনা দুর করতে হেক্লা লাভা অব্যার্থ।
কার্বোভেজঃ-পানসে দাঁত,মাজিতে বা কুলি করিলে রক্ত বের হয়।মাড়ী হতে দাঁত আগলা হয়ে যায়।বেদনা করে সেই রোগীর জন্য কার্বোভেজ প্রয়োজনীয় ঔষধ।

ক্রিয়োজোটঃ-শিশুদের দাঁত উঠিবার পরেই আস্তে আস্তে কাল হইতে থাকে।ভেঙ্গে পরে,মাড়ী ফুলে রক্ত পরে,পোকায় ধরা দাঁতে ভীষন বেদনা করে এই লক্ষণ বিশিষ্ট রোগীর জন্য ক্রিয়োজোট উপযোগী।

এসিড ফ্লোরঃ-দাঁতের মাড়ীতে ঘা,পুঁজ পরে,মুখ দিয়ে পচাঁ গন্ধবের হয়,ঠান্ডা পানি মুখে দিলে আরাম বোধ করে গরম পানিতে যন্ত্রনা বৃদ্ধি পায়।সেই রোগীর জন্য এসিড ফ্লোর শ্রেষ্ঠ ঔষধ।
মার্ক সলঃ-দাঁতের মাড়ী ফোলা,বেদনা,মাড়ীতে ঘা,রক্ত পরা,মুখ হতে লালা পরা,মুখে দুর্গন্ধ,পোকায় ধরা দাঁত,ঠান্ডা পানিতে যন্ত্রনা দাঁতের যন্ত্রনা রাতে বৃদ্ধি হলে মার্কসল উপযুক্ত ঔষধ।
এন্টিম ক্রুডঃ-পোকায় ধরা দাঁতে খাদ্র বস্তু আটকাইয়া দাতে বেদনা।ঠান্ডা পানিতে যন্ত্রনা বৃদ্ধি।দাতের যন্ত্রনায় পানি যাতে দাঁতে না লাগে সেই জন্য হা করিয়া পানি পান করে।কোস্ঠবদ্ধ রোগী জিহ্বা সাদাপ্রলেপ যুক্ত সেই রোগীর জন্য এন্টিম ক্রুড উপযোগী।
এসিড নাইঃ-ঠোটের কোনে ঘা,দাঁতের মাড়ীতে ক্ষত,রক্ত পরে,মুখ হতে দুর্গন্ধ বাহির হয়,প্রস্রাবে কটু গন্ধযুক্ত রোগীর পাইরিয়া রোগে উপযোগী।
টিউবারকুলিনামঃ-সন্মুখ দুই দাঁতের মাঝে কাল দাগ,ছিদ্র হয়ে যাইতে থাকিলে টিউবারকুলিনাম উপযোগী।
সাইলেসিয়াঃ-দাঁতের মাড়ীতে নালী ঘা বা পাইরিয়া হলে সাইলেসিয়া উপযোগী।সাইলেসিয়া দ্বারা সম্পুর্ণ আরোগ্য না হলে এসিড ফ্লোর সম্পূর্ণ আরোগ্য দিবে।
ক্যালেন্ডুলাঃ-মুখের রোগজীবানু মুক্ত করতে ক্যালেন্ডুলা মাদার বাহ্য ব্যবহার করা হয়্,এবং সেবনে পাইরিয়া চিকিৎসায় উপযোগী।
কেলি ক্লোরঃ-পাইরিয়া রোগে মুখের ক্ষত ও মাড়িতে ক্ষত নিরাময়ে বাহ্য ও সেবন করতে দিলে অনেক উপকার হয়।

স্ট্যাফিসেগ্রিয়াঃ-ক্রোধপরায়ন রোগীর,সদা সর্বদা কাম চিন্তায় ব্যাস্ত,অপমানের ভয়ে ক্রোধ চাপা রাখে,শীত কাতর এই ধাতুর রোগীর দাঁতের পোকা,দাঁতে বেদনা,ফোলা প্রভৃতি লক্ষণ সমষ্টিতে স্ট্যাফিসেগ্রিয়া উপযোগী।
ব্যাপটিসিয়াঃ-মুখে অত্যন্ত দুর্গন্ধ,ক্ষত,দাতের গোড়া আগলা হওয়াসহ ব্যাপ্টিসিয়ার নির্বাচক লক্ষণ সমষ্টির পাইরিয়ার রোগীর জন্য উপযোগী।
হোমওপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি বাইয়োকেমিকঃ
সাইলেসিয়া, ক্যালকেরিয়া ফ্রোর,ক্যালকেরিয়া ফস,ম্যাগফস ও নেট্রাম সাল্ফ লক্ষণ সাদৃশে প্রয়োগে ফলদায়ক।হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা তাই লক্ষণ বিবেচনায় আরো অনেক ঔষধ প্রয়োজন হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here